৯ মে, ২০২৬
দীর্ঘ সাত বছরের নিরবচ্ছিন্ন পথচলা শেষে ৩০০তম পর্বের মাইলফলক স্পর্শ করল শায়খ আহমাদুল্লাহর জনপ্রিয় লাইভ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘শরয়ী সমাধান’। এটি আস-...
আরও পড়ুন
৯ মে, ২০২৬
দীর্ঘ সাত বছরের নিরবচ্ছিন্ন পথচলা শেষে ৩০০তম পর্বের মাইলফলক স্পর্শ করল শায়খ আহমাদুল্লাহর জনপ্রিয় লাইভ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘শরয়ী সমাধান’। এটি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের দাওয়াহ কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম সফল ও প্রাণবন্ত অনুষঙ্গ। এর মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ তাদের জীবন ও দ্বীনি জিজ্ঞাসার উত্তর পেয়ে থাকেন। অনুষ্ঠানটির ৩০০তম পর্বের মাইলফলক উপলক্ষ্যে শুক্রবার (৮ মে) ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আয়োজিত হয় ৩০১তম বিশেষ পর্ব ‘সামনাসামনি প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান’। এতে নিয়মিত দর্শকদের মধ্য থেকে চার শতাধিক দর্শক অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানটি সুচারুরূপে সম্প্রচারিত হওয়ার নেপথ্যে কাজ করা সকল কলা-কুশলী। সাব্বির জাদিদের সঞ্চালনায় পবিত্র কুরআন মাজিদ তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঞ্চালক একে একে সকল কলা-কুশলীদের পরিচয় করান। কলা-কুশলীদের পক্ষ থেকে একজন অনুভূতি ব্যক্ত করেন।এরপর বক্তব্য রাখেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ। তিনি দর্শকদের সামনে ‘শরয়ী সমাধান’ অনুষ্ঠানের স্মৃতি, সংকট ও নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার গল্প তুলে ধরেন। এরপর অনুষ্ঠানের শুরু থেকে এই পর্যন্ত দীর্ঘ সাত বছর নিরলস কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফাউন্ডেশনের মিডিয়া বিভাগের কর্মী আজিজ আহমেদ ও মাহদী হাসানকে সম্মাননা প্রদান করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। কলা-কুশলীদের পক্ষ থেকেও শায়খ আহমাদুল্লাহকেও একটি বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।এছাড়া অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়, যেখানে লাইভ প্রশ্নোত্তরের সাত বছরের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। দর্শকদের থেকে দুজন নিয়মিত দর্শকের অনুভূতি গ্রহণ করা হয়। গাজীপুর থেকে আগত দর্শক রায়হান আলী বলেন, ‘আমি প্রতি শুক্রবার এই অনুষ্ঠানটির জন্য অধীর আগ্রহে বসে থাকি। এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি দেখি। এই অনুষ্ঠানের একটি প্রশ্নোত্তর থেকে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পেরেছি।’ এছাড়াও এই অনুষ্ঠানের আরো অনেক এমন অগণিত দর্শক আছেন যারা অনুষ্ঠানটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেন। এরপর তিনজন অনন্য দর্শককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সাত বছর আগে অনুষ্ঠানটির সূচনা পর্বে প্রথম কমেন্টকারী সাইমুম সাদী, ৩০০টি পর্বই ধারাবাহিকভাবে দেখা নারী সুলতানা ইসলাম এবং প্রথম দিকে অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য কারিগরি সহযোগিতা প্রদানকারী জনাব জাকির হোসেনকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়।৩০১ তম পর্ব অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল শায়খ আহমাদুল্লাহর সামনাসামনি প্রশ্নোত্তর পর্ব। শায়খ উপস্থিত দর্শকদের করা বিভিন্ন দ্বীনি ও সমসাময়িক জীবন-জিজ্ঞাসার অত্যন্ত চমৎকার ও তথ্যবহুল সমাধান প্রদান করেন। এর আগে শায়খ আহমাদুল্লাহ তার বক্তব্যে এই লাইভ অনুষ্ঠানটি পরিচালনার নানা অভিজ্ঞতা ও তিক্ত বাস্তবতা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘এই শরয়ী সমাধান অনুষ্ঠানটিই আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রথম প্রকল্প। তখন লোকবল ছিল না, ভালো একটা পিসিও ছিল না। একেবারে আনাড়ি তিনজন লোক এবং একটি গ্যারেজে ১০ হাজার টাকা খরচে অস্থায়ী স্টুডিও করে শুরু করি এই অনুষ্ঠান। এরই মধ্যে দেশের খ্যাতনামা এক শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে অফার আসে যে, তারা এই অনুষ্ঠানটি তাদের লোগো ব্যবহার করে সম্প্রচার করবে। আর এর বিনিময়ে মাসে আট লাখ মানে প্রতি পর্বে দুই লাখ করে টাকা দেবে। কিন্তু তা আমরা গ্রহণ করিনি। যদিও আমাদের সেই সংকটময় মুহূর্তে এমন একটা অফার প্রত্যাখ্যান করা সহজ ব্যাপার ছিল না। কিন্তু আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আমরা তা প্রত্যাখান করেছি। আজ হাঁটি হাঁটি পা পা করে এই অনুষ্ঠান ৩০০ তম পর্ব সমাপ্তি হলো।’এরপর শায়খ আহমাদুল্লাহ শুরু থেকে এই পর্যন্ত সকল দর্শকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এশার নামাজের বিরতির পর শুরু হয় এক অনন্য মুহূর্ত। উপস্থিত চার শতাধিক দর্শক সরাসরি শায়খের সাথে মুসাফাহা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ পান। পরিশেষে সবার জন্য বিশেষ নাস্তার আয়োজনের মাধ্যমে এই স্মরণীয় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানটি বর্তমানে বাংলাভাষী মুসলিমদের কাছে দ্বীনি জ্ঞানার্জনের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। ৩০০তম পর্বের এই বিশেষ আয়োজনে অনলাইন ও অফলাইনে দশ সহস্রাধিক মানুষ অনুষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি এটি যেন দীর্ঘদিন ধারাবাহিকভাবে চালু থাকে—সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।