২৫ অক্টোবর, ২০২৬
বহুমুখি কাজের মাধ্যমে গোটা জাতির কাছে পরিচিত মুখ শায়খ আহমাদুল্লাহ। তবে তাঁর সত্তাজুড়ে রয়েছে লেখালেখি। একটা সময় নিয়ম করে লিখতেন। করেছেন প্রচুর অনু...
আরও পড়ুন
২৫ অক্টোবর, ২০২৬
বহুমুখি কাজের মাধ্যমে গোটা জাতির কাছে পরিচিত মুখ শায়খ আহমাদুল্লাহ। তবে তাঁর সত্তাজুড়ে রয়েছে লেখালেখি। একটা সময় নিয়ম করে লিখতেন। করেছেন প্রচুর অনুবাদও। প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে রয়েছে তাঁর বই-পুস্তিকা। নানা ব্যস্ততার কারণে লেখালেখিতে কিছুটা ভাটা এলেও এই জগতের প্রতি তাঁর বরাবরই অন্যরকম টান রয়েছে। নতুন করে তিনি লেখালেখিতে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। লেখালেখির নানা দিক নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন : জহির উদ্দিন বাবরএকটা সময় আপনি প্রচুর লিখতেন, অনুবাদ করতেন। সেই সময়টা এখন কতটা মিস করেন?লেখালেখি দাওয়ার অন্যতম প্রভাবশালী মাধ্যম। বহুমুখি দাওয়ার অংশ হিসাবে আমি উম্মারহর প্রয়োজন ও উপকারী বিষয়ে লেখালেখি করি। এখনো লিখে চলেছি। তবে একটা সময় নিয়মিত লিখতাম, অনুবাদ করতাম। তখন সময়ের বড় একটা অংশ এ কাজে ব্যয় করার সুযোগ ছিল। এখন বহুমুখি দাওয়াহ, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজের ব্যস্ততা বেড়েছে। ফলে আগের মতো নিয়মিত লেখা হয় না। তবে লেখার প্রতি আগ্রহ কখনো কমেনি। সুযোগ পেলেই লিখতে বসি এবং প্রচুর লেখার প্রয়োজনও অনুভব করি। ভালো লেখা মানুষের চিন্তা ও জীবনকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করতে পারে।এখন পর্যন্ত আপনার কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে? উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বইয়ের নাম বলবেন কি?বইয়ের সংখ্যা হিসাব করতে গেলে বই, পুস্তিকা ও বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রকাশনা—এগুলো আলাদা করে দেখতে হয়। আমার বেশ কিছু বই ও পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ঈমানের অপরিহার্য পাঠ, উমরাহ কীভাবে করবেন, তারাবীহর সালাতে কুরআনের বার্তা, মাহে রমাদানের ২৭ আমল, রমাদান প্ল্যানার, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সকাল-সন্ধ্যার দুআ ও যিকর উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি ঘুমের আগের দুআ-যিকির ও আমল নিয়েও একটি পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছে। আমার সব সময়ই চেষ্টা থাকে, সাধারণ মানুষের প্রয়োজন, কিন্তু যেসব বিষয়ে এখনো তেমন ভালো কাজ হয়নি, সেসব বিষয়ে কাজ করা।সম্প্রতি আপনি প্রয়োজনীয় কিছু বিষয়ে লেখালেখি করছেন। এটাকে সিরিয়াসভাবে নেওয়ার কোনো চিন্তা আছে কি? পাঠকরা আপনার লেখা নিয়মিত পাবে কি?ইনশাআল্লাহ, ইচ্ছা আছে। লেখালেখির মাধ্যমে মানুষের কাছে কিছু কথা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন আমি আগের চেয়ে আরও বেশি অনুভব করছি। বিশেষ করে এমন কিছু বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে আমাদের সমাজে কথা বলা দরকার, কিন্তু সেগুলো নিয়ে খুব বেশি লেখা হয় না, কথা হয় না। সেসব বিষয়ে সময়-সুযোগ অনুযায়ী নিয়মিত লেখার চেষ্টা করব। তবে লেখার জন্য লেখা নয়, যে বিষয়ে বলার মতো কিছু আছে, মানুষের উপকার হবে এবং সময়ের প্রয়োজন আছে, সেসব বিষয়েই লিখতে চাই।দেশে-বিদেশে আপনার প্রচুর ফ্যান-ফলোয়ার আছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ ধারার সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে আপনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এ ব্যাপারে কোনো ভাবনা আছে কি?মানুষের ভালোবাসা যেমন আনন্দের, তেমনি এটি একটি বড় দায়িত্বও। যারা আমাকে ভালোবাসেন বা আমার কথা অনুসরণ করেন, তাদের মধ্যে ভালো চিন্তা, পাঠাভ্যাস, জ্ঞানচর্চা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক রুচি যেন গড়ে ওঠে—এটা অবশ্যই কাম্য। ইসলাম মানুষের জীবনকে শুধু ইবাদতের কিছু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং তার চিন্তা, রুচি, আচরণ ও সংস্কৃতিকেও সুন্দর করতে চেয়েছে।আমাদের এমন সাহিত্য ও সংস্কৃতি দরকার, যা মানুষকে অশ্লীলতা বা হতাশার দিকে ঠেলে দেবে না; বরং তার মধ্যে সৌন্দর্যবোধ, মানবিকতা, নৈতিকতা ও সত্যের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করবে। এ ক্ষেত্রে আমরা ব্যাপকভাবে কাজ করতে চাই। ইতোমধ্যে সাধ্যমতো কাজ শুরুও করেছি।জেনে থাকবেন, আমাদের নির্মাণাধীন মসজিদ কমপ্লেক্সের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আমরা চাই, এই মসজিদ কমপ্লেক্সকে শুধু নামাজের স্থান হিসেবে নয়, মুসলিম সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার একটি প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে। এর মাধ্যমে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করতে চাই। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে এ জায়গা থেকে মুসলিম সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রসারে ব্যাপক কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।প্রযুক্তির এই উৎকর্ষের যুগে দাওয়াতের ক্ষেত্রে একটি লেখা বা একজন লেখকের ভূমিকা কতটুকু?প্রযুক্তি এখন মানুষের জন্য খুব সহজলভ্য। একটি পরিবারের প্রায় সবার হাতেই প্রযুক্তি পৌঁছে গেছে। কিন্তু এই সহজলভ্যতার কারণে অনেক ভুল তথ্য ও ভুল লেখা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে মানুষ অনেক সময় বিভ্রান্ত হচ্ছে, প্রতারিতও হচ্ছে। তথ্যের এই অতিবৃদ্ধির সময়ে ভালো ও নির্ভরযোগ্য লেখকের প্রয়োজন আমি মনে করি আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে। নিঃসন্দেহে মানুষ এখন লেখার চেয়ে রিলস ও ভিডিওর প্রতি বেশি আকৃষ্ট। কিন্তু ভালো লেখার প্রয়োজন কখনো ফুরাবে না। দাওয়াহর ক্ষেত্রে ভিডিও, অডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবকিছুরই প্রয়োজন আছে; একই সঙ্গে মানসম্মত লেখারও নিজস্ব একটি শক্তি ও গুরুত্ব রয়েছে।এই সময়ে ইসলামি ধারার যারা লেখালেখি করছেন, তাদের লেখায় কোন কোন ঘাটতি চোখে পড়েছে? আপনার বিশ্লেষণ কী?অনেকেই আন্তরিকতার সঙ্গে ভালো লিখছেন, মাশাআল্লাহ। তবে কিছু জায়গায় আরও উন্নতির সুযোগ আছে। একটি বিষয় আমি বিশেষভাবে বলতে চাই—আমাদের শুধু প্রতিক্রিয়াশীল লেখক হলে চলবে না। সমাজে কোনো ঘটনা ঘটার পর তার প্রতিক্রিয়ায় লেখা যেমন প্রয়োজন, তেমনি মানুষকে আগে থেকেই সঠিক চিন্তা ও মূল্যবোধের দিকে পরিচালিত করার মতো মৌলিক লেখাও প্রয়োজন। আমাদের লেখালেখিকে আরও গবেষণামুখী, বাস্তবমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি করতে হবে।আপনার নেতৃত্বে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন থেকে অনেক কাজ হচ্ছে মাশাআল্লাহ। লেখালেখি, সাংবাদিক বা মিডিয়া নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চিন্তা আপনার আছে কি?আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের কাজের পরিধি—শিক্ষা, সেবা ও দাওয়াহ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরো বিস্তৃত। লেখালেখি, গবেষণা ও গণমাধ্যমও দাওয়াহর গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এ ক্ষেত্রগুলো নিয়ে অবশ্যই আমাদের চিন্তা আছে। তবে এটাও মনে রাখা জরুরি, একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একসঙ্গে সমাজের সব সমস্যা নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। একসঙ্গে সব দিকে কাজ শুরু করলে কোনো কাজই হয়তো প্রত্যাশিত মানে করা সম্ভব হবে না। তবে একটি ভালো ও বস্তুনিষ্ঠ মিডিয়ার প্রয়োজন আমরা খুব গভীরভাবে অনুভব করি।লেখক-চিন্তকদের একটি বড় অংশ আপনাকে ফলো করেন। তাদের উদ্দেশে আপনার বিশেষ কোনো বার্তা আছে কি?লেখক ও চিন্তকদের প্রতি আমার প্রথম কথা হলো, নিজেদের দায়িত্বটা বুঝুন। লেখকের কলম শুধু নিজের কথা বলার মাধ্যম নয়; এটি অনেক মানুষের চিন্তা তৈরির মাধ্যম। তাই লেখার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা দরকার—আমি যা লিখছি, তা কি সত্য? এটি কি প্রয়োজনীয়? এটি কি মানুষের কোনো উপকার করবে? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জনপ্রিয় হওয়ার চেয়ে সত্য ও কল্যাণের পক্ষে থাকা। পাঠক আজ বেশি, কাল কম, এটি খুব বড় বিষয় নয়। একজন লেখক যদি এমন কিছু রেখে যেতে পারেন, যা বহু বছর পরও মানুষকে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সেটিই তার বড় সাফল্য।সূত্র : লেখকপত্র
৮ অক্টোবর, ২০২৬
‘এ দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় কষ্টগুলোর একটি অসুস্থতা। একজন মানুষ মাসে যত টাকা উপার্জন করেন, তার বড় একটি অংশই চলে যায় চিকিৎসার পেছনে। আমাদের জীবনযাপনের প...
আরও পড়ুন
৮ অক্টোবর, ২০২৬
‘এ দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় কষ্টগুলোর একটি অসুস্থতা। একজন মানুষ মাসে যত টাকা উপার্জন করেন, তার বড় একটি অংশই চলে যায় চিকিৎসার পেছনে। আমাদের জীবনযাপনের পরিবেশও বড় অনিরাপদ। স্বাধীনতার ৫২ বছর পেরোলেও আমরা দ্বিধাহীনভাবে এক বোতল পানি পান করতে পারি না, নিশ্চিন্তে কোনো খাবার কিনে খেতে পারি না। ভোক্তা অধিদপ্তর অভিযান চালালেই দেখা যায়, দোকানে দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও অনিরাপদ খাবারের ছড়াছড়ি। এমন দেশে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা নিঃসন্দেহে কঠিন।’৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সীরাত সেমিনার ’২৬’-এ প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। কলেজের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে ‘The Prophetic Physician: Seerah, Knowledge & The Mission of Healing’—নববী চিকিৎসাপদ্ধতি: সীরাত, জ্ঞান ও নিরাময়ের মহান ব্রত বিষয়ে বক্তব্য দেন তিনি।শ্রোতাদের একাংশএসময় তিনি মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, শারীরিক ও আত্মিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এবং চিকিৎসা সেবার সাথে ইসলামিক মূলবোধের মেলবন্ধন নিয়ে দীর্ঘ দেড় ঘন্টাব্যাপী আলোচনা করেন।চিকিৎসা পেশায় জড়িতদের উদ্দেশ্যে তিনি ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-এর উদ্বৃতি উল্লেখ করে বলেন, কীসে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট কিংবা অসন্তুষ্ট হন? ঈমান আনার পর মানুষ যখন মানুষের উপকার করে, তখন আল্লাহ সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট হন। আর কুফর তথা আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসের পর মানুষ যখন মানুষের ক্ষতি করে, তখন আল্লাহ সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট হন।তিনি আরও বলেন, ‘কেউ আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে চাইলে তার উচিত আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান আনা এবং মানুষের সেবা করা। আর এই কাজটি সবচেয়ে ভালোভাবে করার সুযোগ পান চিকিৎসকেরা। কারণ, মানুষ তার সবচেয়ে কঠিন সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সে সময় আপনারা যদি আন্তরিকভাবে মানুষের সেবা করেন, তবে আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন। মানুষও আপনাদের জন্য দোয়া করবেন।’এ ছাড়া সুস্থ জীবনযাপনে মহানবী (সা.)-এর নির্দেশনা ও সুন্নাহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের প্রায় পাঁচশত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও চিকিৎসক।
৩ অক্টোবর, ২০২৬
বিশিষ্ট দাঈ, লেখক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহর নতুন বই ‘ঘুমের আগের দুআ-যিকির ও আমল’ প্রকাশিত হয়েছে। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্...
আরও পড়ুন
৩ অক্টোবর, ২০২৬
বিশিষ্ট দাঈ, লেখক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহর নতুন বই ‘ঘুমের আগের দুআ-যিকির ও আমল’ প্রকাশিত হয়েছে। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয় বইটি। আজ শনিবার বাইতুল মোকাররম ইসলামি বইমেলার ৮৮ নম্বর স্টলে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।ঘুমের আগের সময়টি ছিল নবীজি (সা.)-এর দুআ-যিকির ও আমলে পরিপূর্ণ। অথচ বর্তমানে এই সময়টি দখল করে নিয়েছে মোবাইল স্ক্রলিং। ঘুমের আগের সময়টিকে ফলপ্রসূ ও বরকতময় করে তুলতেই শায়খ আহমাদুল্লাহ রচনা করেছেন এই বই।বইটির নির্ধারিত মূল্য ১০০ টাকা। দেশের যেকোনো স্থান থেকে অনলাইন বুকশপ রকমারি, ওয়াফিলাইফ, নাফিউনসহ অন্যান্য বুকশপে বইটি পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া অভিজাত বইয়ের দোকানগুলো থেকেও বইটি সংগ্রহ করা যাবে।প্রচ্ছদবইটির ফ্ল্যাপে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন—‘শত ব্যস্ততার মাঝেও ঘুমের আগের যে আমলসমূহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত করতেন, সেই আমলগুলো কি আমরা অনিয়মিতও করতে পারি?এই ছোট্ট পুস্তিকা বদলে দিতে পারে আপনার বাসার রাতের পরিবেশ। বিছানায় যাওয়ার আগে মোবাইল দূরে রেখে সপরিবারে আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমলগুলো করছেন—এটি আপনার বাসার এক জান্নাতি দৃশ্য হতে পারে।সুন্নাহ পালনের মাঝেই নিহিত আছে আমাদের উভয় জগতের কল্যাণ। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ এবং সীমাহীন সওয়াব লাভের পাশাপাশি জিন, জাদু ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার রক্ষাকবচ হতে পারে এই পুস্তিকা।আমাদের প্রশান্ত রাত, নিরাপদ পরিবার আর সুন্নাহময় জীবনের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যেতে এই পুস্তিকা হোক আপনার প্রতিরাতের সঙ্গী।’বাংলা ভাষায় ঘুমের আগের দুআ-যিকির ও আমল নিয়ে স্বতন্ত্র বই সম্ভবত এটিই। এমনকি উর্দু ও আরবি ভাষাতেও এ বিষয়ে স্বতন্ত্র বই খুব একটা পাওয়া যায় না। যা আছে, সেগুলোর কোনো কোনোটি বড় বইয়ের একটি অধ্যায় হিসেবে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বইটি বাংলাভাষী মুসলিমদের প্রতিরাতের সঙ্গী হয়ে উঠবে।উল্লেখ্য, এর আগে শায়খ আহমাদুল্লাহর সংকলিত সকাল-সন্ধ্যার দুআ-যিকিরের বই এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাত-পরবর্তী দুআ কার্ড এ পর্যন্ত ১২ লক্ষাধিক মানুষের হাতে পৌঁছেছে।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাংলাদেশ মুসলিম কমিউনিটি মালয়েশিয়ার আমন্ত্রণে সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফর করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। ১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার মালয়েশিয়ায় গমন করেন তিনি।১৫ থেকে...
আরও পড়ুন
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাংলাদেশ মুসলিম কমিউনিটি মালয়েশিয়ার আমন্ত্রণে সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফর করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। ১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার মালয়েশিয়ায় গমন করেন তিনি।১৫ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর মোট ৯ দিনের এই সফরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বিভিন্ন দাওয়াতি ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন স্থান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিশেষভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।১৬ সেপ্টেম্বর (বুধবার) কুয়ালালামপুরে আয়োজিত ‘জীবনের সন্ধানে—Faith, Purpose & Brotherhood’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। মুসলিম কমিউনিটি মালয়েশিয়া আয়োজিত অনুষ্ঠানটি কুয়ালালামপুরের হোটেল কুয়ালালামপুর ইন্টারন্যাশনালের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। এতে শায়খ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে বক্তা হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের আরেক সুপরিচিত ইসলামি স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী।এরপর ২০ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরে আরও একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। এটি ছিল ‘ইউথ কমিউনিটি বাংলাদেশ’ আয়োজিত অনুষ্ঠান। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হয়।এ সফরে একদিন তিনি বিশ্বখ্যাত দাঈ ড. জাকির নায়েকের সঙ্গে তার বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা পরস্পরে হাদিয়া বিনিময় করেন। শায়খ আহমাদুল্লাহ নিজের সংকলিত একটি বই তাকে উপহার দেন, আর ড. জাকির নায়েক তাকে দেন আতর উপহার।এ ছাড়া সফরকালে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। এর মধ্যে বিশেষভাবে তিনি পাহাড়ি অঞ্চল ক্যামেরন হাইল্যান্ডে যান। সেখানে চা, স্ট্রবেরি ও আঙুরের বাগান পরিদর্শন করেন। এ সময় পাহাড়ের চূড়ায় বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সফর শেষে দেশে ফেরেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মালয়েশিয়ায় বিশ্বখ্যাত দাঈ ডা. জাকির নায়েকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশিষ্ট আলেম, জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ...
আরও পড়ুন
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মালয়েশিয়ায় বিশ্বখ্যাত দাঈ ডা. জাকির নায়েকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশিষ্ট আলেম, জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডা. জাকির নায়েকের বাসভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে শায়খ আহমাদুল্লাহ ডা. জাকির নায়েকের হাতে তার সংকলিত ‘সকাল-সন্ধ্যার দুআ’ বইয়ের ইংরেজি সংস্করণ তুলে দেন। এ সময় ডা. জাকির নায়েক তাকে ‘কিসওয়াতুল কাবা’ আতর উপহার দেন।ডা. জাকির নায়েকের বাসভবনেএ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী এবং ডা. জাকির নায়েকের ছেলে ফারিক নায়েক।
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিস্মৃত ও হারিয়ে যেতে বসা সুন্নাহগুলোকে মানুষের মাঝে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে...
আরও পড়ুন
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিস্মৃত ও হারিয়ে যেতে বসা সুন্নাহগুলোকে মানুষের মাঝে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে শায়খ আহমাদুল্লাহর নতুন ধারাবাহিক অনুষ্ঠান ‘হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ’। ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্ব।নবী করিম (সা.)-এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ সময়ের পরিক্রমায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। কিছু সুন্নাহ সম্পর্কে মানুষ প্রায় ভুলেই গেছে, আবার কিছু সুন্নাহ সমাজে ভুলভাবে প্রচলিত রয়েছে। এমন বিস্মৃত, অবহেলিত ও ভুলভাবে প্রচলিত সুন্নাহগুলোকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে তুলে ধরে সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে শুধু সুন্নাহ সম্পর্কে জানানো নয়, বরং জানা, আমল করা এবং অন্যদের আমলে উৎসাহিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ আমাদের জীবনের সৌন্দর্য ও পূর্ণতার পথ। আমরা নিজেরা সুন্নাহর আলোকে জীবন গড়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সুন্নাহ পালনে উৎসাহিত করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টি হতে পারে। ব্যক্তির পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই পরিবার, সমাজ এবং বৃহত্তর পরিসরে পরিবর্তনের সূচনা হয়।‘প্রিয়নবীর হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষকে নিজেদের জীবনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সুন্নাহর চর্চা বৃদ্ধি পেলে মানুষের নৈতিকতা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী হবে।অনুষ্ঠানটি প্রতি শুক্রবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শায়খ আহমাদুল্লাহর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত প্রকাশিত হবে।শায়খ আহমাদুল্লাহ আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আসুন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ পালন করি, অন্যকে উৎসাহিত করি এবং এই দাওয়াহর কাজে অংশীদার হই।।‘প্রিয়নবীর হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ’ অনুষ্ঠানটি নিজে দেখুন, সুন্নাহগুলো জানুন ও আমল করুন। পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতদেরও অনুষ্ঠানটি দেখার এবং সুন্নাহগুলো নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের সুযোগ করে দিন।
২৪ আগস্ট, ২০২৬
মাদরাসা শিক্ষার প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাদরাসা পরিচালকদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়েছে আস-সুন্নাহ...
আরও পড়ুন
২৪ আগস্ট, ২০২৬
মাদরাসা শিক্ষার প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাদরাসা পরিচালকদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়েছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। প্রশিক্ষণে ‘মাদরাসা শিক্ষার ভাবমূর্তি রক্ষা, সুশাসন ও সংকট উত্তরণের পথ’ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন পরিচালনা করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।প্রশিক্ষণার্থীদের একাংশএ ছাড়া তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা দশটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। প্রশিক্ষণের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল—এডুকেশনাল লিডারশিপ, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স, কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট, আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটালাইজেশন ও আধুনিক টুলসের ব্যবহার, স্টুডেন্ট সাইকোলজি ও পার্সোনালিটি টাইপ (MBTI), আধুনিক পাঠদান পদ্ধতিসহ আরও বিভিন্ন বিষয়।গত ২২ থেকে ২৪ আগস্ট রাজধানীর আফতাবনগরে অবস্থিত আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশিক্ষণের ঘোষণা প্রকাশের পরপরই কর্মশালাটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রশিক্ষণে অংশ নিতে দেশের ৪৯টি জেলার ৩ হাজার ৬৭৩ জন মাদরাসা পরিচালক, শিক্ষাসচিব ও আবাসিক ইনচার্জ আবেদন করেন। আসনসংখ্যা সীমিত থাকায় তাদের মধ্য থেকে বাছাই করা মাত্র ২১০ জন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।অংশগ্রহণকারী ওলামায়ে কেরাম এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা জানান, প্রথাগত মাদরাসা পরিচালনার বাইরে গিয়ে কর্পোরেট ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার কৌশলগুলো শিখতে পেরে তারা অনেক উপকৃত হয়েছেন, যা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।উল্লেখ্য, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের আবাসন, খাবার ও প্রশিক্ষণসামগ্রী আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। কোর্স শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্রও তুলে দেওয়া হয়।মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দক্ষ ও যুগোপযোগী প্রশাসনিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।
১৮ আগস্ট, ২০২৬
১৮ আগস্ট, মঙ্গলবার রাজধানীর আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (AUST) ‘হেদায়াতুস সাহম’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্...
আরও পড়ুন
১৮ আগস্ট, ২০২৬
১৮ আগস্ট, মঙ্গলবার রাজধানীর আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (AUST) ‘হেদায়াতুস সাহম’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম. এইচ. খান অডিটোরিয়ামে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। Beyond the Degree: The Ummah Needs Your Potential (ডিগ্রির বাইরেও উম্মাহর জন্য আপনার সম্ভাবনা প্রয়োজন)—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত সেমিনারের মূখ্য আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।তরুণদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে শায়খ আহমাদুল্লাহ নবী করিম (সা.)-এর তারুণ্যের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারুণ্য হেয়ালিপনার বয়স নয়; বরং নিজেকে উম্মাহর জন্য প্রস্তুত করার সময়। নবী করিম (সা.) তখনো নবুওয়াতপ্রাপ্ত হননি। কিন্তু তারুণ্যেই তিনি মানুষের কল্যাণে বহুবিধ কাজে যুক্ত হয়েছেন। মানুষের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যে গঠিত ঐতিহাসিক ‘হিলফুল ফুযুল’-এও তিনি যুক্ত হন। তাই তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারুণ্যের এই মূল্যবান সময় হেলায় নষ্ট করা যাবে না।তিনি তরুণদের সময়ের সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে আরো বলেন, জীবনের এই মূল্যবান সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজেদের যোগ্য, আদর্শিক ও নৈতিকভাবে দৃঢ় করে গড়ে তুলতে হবে। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশ, সমাজ ও উম্মাহর কল্যাণে কাজে লাগানোরও আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল হক। আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।
১৬ আগস্ট, ২০২৬
গতকাল (১৫ আগস্ট, শনিবার) রাজধানীর উত্তরার স্কলারস ইন্টারন্যাশনাল তাহফিজ একাডেমির 'স্পেশাল প্যারেন্টিং সেশন ও সবক প্রদান অনুষ্ঠান ২০২৬'-অনুষ্...
আরও পড়ুন
১৬ আগস্ট, ২০২৬
গতকাল (১৫ আগস্ট, শনিবার) রাজধানীর উত্তরার স্কলারস ইন্টারন্যাশনাল তাহফিজ একাডেমির 'স্পেশাল প্যারেন্টিং সেশন ও সবক প্রদান অনুষ্ঠান ২০২৬'-অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নন্দিত আলোচক, ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে শায়খ আহমাদুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। তিনি পবিত্র কুরআনের সুরা আর-রহমানের প্রথম আয়াতের ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘শিক্ষার সঙ্গে মমতার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। শিক্ষার্থীদের প্রতি পরম মমতা ধারণ করা ছাড়া কোনো শিক্ষক আদর্শ শিক্ষক হতে পারেন না।’সুরা আর-রহমানের প্রথম আয়াতের তরজমা হলো, ‘যিনি পরম দয়ালু, তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন।’ শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, শিক্ষার সঙ্গে দয়ার কী সম্পর্ক! আল্লাহ যদি বলতেন, ‘যিনি মহাজ্ঞানী, তিনি শিক্ষা দিয়েছেন’—তাহলে হয়তো বিষয়টি বেশি উপযুক্ত মনে হতো। কিন্তু আল্লাহ তা বলেননি। সুতরাং এর মাধ্যমে শিক্ষার সঙ্গে দয়ার সম্পর্ক কতটা গভীর, তা বোঝা যায়। তিনি সকল শিক্ষককে গভীর মমতার সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। এ ছাড়া সন্তানের জীবন গঠনে অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন তিনি।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ জনাব নূরুল ইসলাম মনি (এমপি)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নতুন সবক প্রদানের মাধ্যমে পবিত্র কুরআন হিফজের যাত্রা শুরু করা হয়। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও নিবিড় মনোযোগে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফলভাবে সমাপ্ত হয়।
২৩ জুলাই, ২০২৬
আলেমদেরকে নির্দিষ্ট গণ্ডি পেরিয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং বর্তমান পৃথিবীর বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব...
আরও পড়ুন
২৩ জুলাই, ২০২৬
আলেমদেরকে নির্দিষ্ট গণ্ডি পেরিয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং বর্তমান পৃথিবীর বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। গতকাল ২২ জুলাই (বুধবার) আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন মসজিদ কমপ্লেক্সে ‘সমকালীন বিশ্বব্যবস্থা ও উম্মাহর সংকট উত্তরণে আলেম সমাজের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বখ্যাত আলেম ও অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের মুখপাত্র শায়খ ড. খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী।এ সেমিনারে দেশের বিভিন্ন অঙ্গন থেকে বাছাইকৃত সাত শতাধিক উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় তরুণ আলেম অংশগ্রহণ করেন। সভাপতির বক্তব্যে শায়খ আহমাদুল্লাহ আরো বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আলেমদের গতানুগতিক ধারার ঊর্ধ্বে উঠে সুদূরপ্রসারী চিন্তার নেতৃত্ব গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য অর্জনে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন উম্মাহর স্বার্থে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন একটি উদাহরণ তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমরা শতভাগ চ্যালেঞ্জের সঙ্গে বলতে পারি সততা ও নৈতিকতার প্রশ্নে ফাউন্ডেশন আপসহীন। উদাহরণত—বর্তমানে আমাদের পাঁচ শতাধিক কর্মী ফাউন্ডেশনে কর্মরত, এর মধ্যে একজনও কোনো সুপারিসে কিংবা অনিয়মে নিয়োগ হয়নি। সবাই সম্পূর্ণ মেধা ও নৈতিক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।’শায়খ ড. খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানীর ১২ দিনব্যাপী বাংলাদেশ সফরের এটি ছিল শেষ দিন এবং এ সেমিনারই ছিল তার সফরের সর্বশেষ কর্মসূচি। তিনি ‘সমকালীন বিশ্বব্যবস্থা ও উম্মাহর সংকট উত্তরণে আলেম সমাজের করণীয়’ বিষয়ে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আজকের রাতটি হয়তো আমার বাংলাদেশে কাটানো সর্বশেষ রাত। এ কদিনে আমি উপলব্ধি করেছি, আপনাদের বহু ভালো গুণ রয়েছে। যদি এসব গুণের সঙ্গে সমঝদারি ও প্রজ্ঞা যুক্ত করতে পারেন, তাহলে আপনারা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবেন। মনে রাখবেন, কেবল দ্বীনদার হওয়া যথেষ্ট নয়; সমঝদার হওয়াও জরুরি।ড. সাজ্জাদ নোমানী সতর্ক করে আরো বলেন, ‘একজন আলেমের সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো অহংকার। শয়তান জিনা বা শিরকের জন্য নয়, বরং অহংকারের কারণে অভিশপ্ত হয়েছে। নিজেকে মুমিন-মুত্তাকি ভেবে অন্যদের পাপী বা নিচু ভাবার মানসিকতা থেকে আলেমদের বেঁচে থাকতে হবে।’তিনি বর্তমান সময়ের তরুণদের মনস্তত্ত্ব বোঝার তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘মাদরাসার মতো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ প্রশ্নাতীত নয়। দ্বীনের কোনো বিষয় বুঝতে তাদের ভেতরে ‘কেন’ বা ‘কীভাবে’—এরকম প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। এতে আলেমদের বিরক্ত হওয়া যাবে না। অত্যন্ত ধৈর্য ও হেকমতের সাথে তাদের সংশয় দূর করতে হবে। তাদের সাথে মিশতে হবে। প্রয়োজনে ফুটবল টুর্নামেন্টের মতো খেলাধুলার ইভেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে হলেও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে এবং ইসলামের সৌন্দর্য তাদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত সাড়ে দশটায়। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, খতিব, লেখক ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন। সর্বশেষ দোয়া ও রাতের খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় অনুষ্ঠান।
- ১