২৩ জুলাই, ২০২৬
আলেমদেরকে নির্দিষ্ট গণ্ডি পেরিয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং বর্তমান পৃথিবীর বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব...
আরও পড়ুন
২৩ জুলাই, ২০২৬
আলেমদেরকে নির্দিষ্ট গণ্ডি পেরিয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং বর্তমান পৃথিবীর বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। গতকাল ২২ জুলাই (বুধবার) আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন মসজিদ কমপ্লেক্সে ‘সমকালীন বিশ্বব্যবস্থা ও উম্মাহর সংকট উত্তরণে আলেম সমাজের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বখ্যাত আলেম ও অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের মুখপাত্র শায়খ ড. খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী। এ সেমিনারে দেশের বিভিন্ন অঙ্গন থেকে বাছাইকৃত সাত শতাধিক উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় তরুণ আলেম অংশগ্রহণ করেন। সভাপতির বক্তব্যে শায়খ আহমাদুল্লাহ আরো বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আলেমদের গতানুগতিক ধারার ঊর্ধ্বে উঠে সুদূরপ্রসারী চিন্তার নেতৃত্ব গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য অর্জনে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন উম্মাহর স্বার্থে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন একটি উদাহরণ তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমরা শতভাগ চ্যালেঞ্জের সঙ্গে বলতে পারি সততা ও নৈতিকতার প্রশ্নে ফাউন্ডেশন আপসহীন। উদাহরণত—বর্তমানে আমাদের পাঁচ শতাধিক কর্মী ফাউন্ডেশনে কর্মরত, এর মধ্যে একজনও কোনো সুপারিসে কিংবা অনিয়মে নিয়োগ হয়নি। সবাই সম্পূর্ণ মেধা ও নৈতিক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।’ শায়খ ড. খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানীর ১২ দিনব্যাপী বাংলাদেশ সফরের এটি ছিল শেষ দিন এবং এ সেমিনারই ছিল তার সফরের সর্বশেষ কর্মসূচি। তিনি ‘সমকালীন বিশ্বব্যবস্থা ও উম্মাহর সংকট উত্তরণে আলেম সমাজের করণীয়’ বিষয়ে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আজকের রাতটি হয়তো আমার বাংলাদেশে কাটানো সর্বশেষ রাত। এ কদিনে আমি উপলব্ধি করেছি, আপনাদের বহু ভালো গুণ রয়েছে। যদি এসব গুণের সঙ্গে সমঝদারি ও প্রজ্ঞা যুক্ত করতে পারেন, তাহলে আপনারা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবেন। মনে রাখবেন, কেবল দ্বীনদার হওয়া যথেষ্ট নয়; সমঝদার হওয়াও জরুরি। ড. সাজ্জাদ নোমানী সতর্ক করে আরো বলেন, ‘একজন আলেমের সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো অহংকার। শয়তান জিনা বা শিরকের জন্য নয়, বরং অহংকারের কারণে অভিশপ্ত হয়েছে। নিজেকে মুমিন-মুত্তাকি ভেবে অন্যদের পাপী বা নিচু ভাবার মানসিকতা থেকে আলেমদের বেঁচে থাকতে হবে।’ তিনি বর্তমান সময়ের তরুণদের মনস্তত্ত্ব বোঝার তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘মাদরাসার মতো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ প্রশ্নাতীত নয়। দ্বীনের কোনো বিষয় বুঝতে তাদের ভেতরে ‘কেন’ বা ‘কীভাবে’—এরকম প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। এতে আলেমদের বিরক্ত হওয়া যাবে না। অত্যন্ত ধৈর্য ও হেকমতের সাথে তাদের সংশয় দূর করতে হবে। তাদের সাথে মিশতে হবে। প্রয়োজনে ফুটবল টুর্নামেন্টের মতো খেলাধুলার ইভেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে হলেও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে এবং ইসলামের সৌন্দর্য তাদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত সাড়ে দশটায়। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, খতিব, লেখক ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন। সর্বশেষ দোয়া ও রাতের খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় অনুষ্ঠান।
৮ জুলাই, ২০২৬
সৎ, নৈতিক ও কল্যাণমুখী আদর্শ সমাজ বিনির্মাণ ও সমাজে দ্বীনি দাওয়াহ কার্যকর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ইমামদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। শায়খ আহ...
আরও পড়ুন
৮ জুলাই, ২০২৬
সৎ, নৈতিক ও কল্যাণমুখী আদর্শ সমাজ বিনির্মাণ ও সমাজে দ্বীনি দাওয়াহ কার্যকর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ইমামদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। শায়খ আহমাদুল্লাহর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় সারাদেশের বিভাগভিত্তিক নির্বাচিত ইমাম-খতিবদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এ পর্যন্ত রংপুর ও রাজশাহী বিভাগসহ মোট তিনটি প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন বর্তমানে বিভিন্ন মসজিদে দায়িত্বরত ৩২০ জন ইমাম-খতিব। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, একটি সমাজের ইমাম হলেন সেই সমাজের সবচেয়ে শ্রদ্ধেয়, গ্রহণযোগ্য ও জনসম্পৃক্ত মানুষ। সুখে-দুঃখে, পারিবারিক সংকটে কিংবা শরয়ী বিধান জানাসহ জীবনের নানা ক্ষেত্রে মানুষ ইমামের শরণাপন্ন হোন। ইমামগণ যদি এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখেন, তাহলে দুর্নীতিমুক্ত, সৎ ও নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠা কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই প্রশিক্ষণে ইমামদেরকে সমসাময়িক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ২০টিরও বেশি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—লিডারশিপ ও পার্সোনাল ডেভেলপমেন্ট, দাওয়াহ ও মনস্তত্ত্ব, ইমোশোনাল ইন্টিলিজেন্স, মসজিদকে প্রোডাক্টিভ করার কৌশল, দাওয়ার ক্ষেত্রে মডার্ন টুলসের ব্যবহার ও ফ্যাক্ট চেকিং, পাবলিক স্পিকিং, ইফেক্টিভ কমিউনিকেশন অ্যান্ড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট, টাইম ম্যানেজমেন্ট, LGBTQ ও জেন্ডার ফিতনা : ভয়াবহতা ও জরুরি নিবেদন, দৈনন্দিন শরীরচর্চা : প্রয়োজনীয়তা। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণ। আর ‘আদর্শ ইমামের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি’ বিষয়ে নিয়মিত একটি সেশন নেন শায়খ আহমাদুল্লাহ নিজেই। এতে তিনি ইমামদের দায়িত্ববোধ, বৈশিষ্ট্য, দাওয়াহর কৌশল এবং একজন ইমামের সমাজ পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা নিয়ে বিস্তর প্রশিক্ষণ দেন। পর্যায়ক্রমে সারাদেশের ইমাম-খতিবদের এই প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
১৬ মে, ২০২৬
আজ (১৬ মে, শনিবার) আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জেনজি ইম্পেক্ট লিডার প্রোগ্রাম-২০২৬’। এতে শায়খ আহমাদুল্লাহ...
আরও পড়ুন
১৬ মে, ২০২৬
আজ (১৬ মে, শনিবার) আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জেনজি ইম্পেক্ট লিডার প্রোগ্রাম-২০২৬’। এতে শায়খ আহমাদুল্লাহ তরুণদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক নসীহা করেন। দেশপ্রেমিক, দক্ষ ও নৈতিক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসাবে অনুষ্ঠিত হয় এই অনুষ্ঠান। এতে দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩টি ক্লাবের ১২০ জন মেধাবী তরুণ অংশগ্রহণ করেন। তরুণদের উদ্দেশে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের ওপরই নির্ভর করছে আগামীর দেশ, জাতি এবং উম্মাহর ভবিষ্যৎ। তোমরাই আগামী নির্মাণ করবে। সুতরাং তোমাদের আমরা এমনভাবে দেখতে চাই যে, শিক্ষা-দীক্ষায় যেমন দক্ষ হবে, তেমনি আখলাক ও চরিত্রেও হবে আদর্শবান। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তোমাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যোগ্য নেতৃত্বের অভাব পূরণে তরুণদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। উম্মাহর প্রতি দরদ নিয়ে তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে। নিজেদের আইডেন্টিটি রক্ষায় যত্নবান হতে হবে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আত্মপরিচয়ে অটুট থাকতে হবে।’ এ সময় তিনি তরুণদের জীবনমুখী বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ। তিনি ফাউন্ডেশনের বর্তমান নানামুখী কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তরুণদের মানবিক ও সামাজিক কাজে সক্রিয় হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।আলোচনা পর্ব শেষে অংশগ্রহণকারী তরুণদের আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরিয়ে দেখানো হয়। তারা ফাউন্ডেশন পরিচালিত স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, আস-সুন্নাহ দাওয়াহ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, মসজিদ কমপ্লেক্স ও মাদরাসা পরিদর্শন করেন।
৯ মে, ২০২৬
দীর্ঘ সাত বছরের নিরবচ্ছিন্ন পথচলা শেষে ৩০০তম পর্বের মাইলফলক স্পর্শ করল শায়খ আহমাদুল্লাহর জনপ্রিয় লাইভ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘শরয়ী সমাধান’। এটি আস-...
আরও পড়ুন
৯ মে, ২০২৬
দীর্ঘ সাত বছরের নিরবচ্ছিন্ন পথচলা শেষে ৩০০তম পর্বের মাইলফলক স্পর্শ করল শায়খ আহমাদুল্লাহর জনপ্রিয় লাইভ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘শরয়ী সমাধান’। এটি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের দাওয়াহ কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম সফল ও প্রাণবন্ত অনুষঙ্গ। এর মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ তাদের জীবন ও দ্বীনি জিজ্ঞাসার উত্তর পেয়ে থাকেন। অনুষ্ঠানটির ৩০০তম পর্বের মাইলফলক উপলক্ষ্যে শুক্রবার (৮ মে) ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আয়োজিত হয় ৩০১তম বিশেষ পর্ব ‘সামনাসামনি প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান’। এতে নিয়মিত দর্শকদের মধ্য থেকে চার শতাধিক দর্শক অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানটি সুচারুরূপে সম্প্রচারিত হওয়ার নেপথ্যে কাজ করা সকল কলা-কুশলী। সাব্বির জাদিদের সঞ্চালনায় পবিত্র কুরআন মাজিদ তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঞ্চালক একে একে সকল কলা-কুশলীদের পরিচয় করান। কলা-কুশলীদের পক্ষ থেকে একজন অনুভূতি ব্যক্ত করেন।এরপর বক্তব্য রাখেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ। তিনি দর্শকদের সামনে ‘শরয়ী সমাধান’ অনুষ্ঠানের স্মৃতি, সংকট ও নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার গল্প তুলে ধরেন। এরপর অনুষ্ঠানের শুরু থেকে এই পর্যন্ত দীর্ঘ সাত বছর নিরলস কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফাউন্ডেশনের মিডিয়া বিভাগের কর্মী আজিজ আহমেদ ও মাহদী হাসানকে সম্মাননা প্রদান করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। কলা-কুশলীদের পক্ষ থেকেও শায়খ আহমাদুল্লাহকেও একটি বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।এছাড়া অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়, যেখানে লাইভ প্রশ্নোত্তরের সাত বছরের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। দর্শকদের থেকে দুজন নিয়মিত দর্শকের অনুভূতি গ্রহণ করা হয়। গাজীপুর থেকে আগত দর্শক রায়হান আলী বলেন, ‘আমি প্রতি শুক্রবার এই অনুষ্ঠানটির জন্য অধীর আগ্রহে বসে থাকি। এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি দেখি। এই অনুষ্ঠানের একটি প্রশ্নোত্তর থেকে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পেরেছি।’ এছাড়াও এই অনুষ্ঠানের আরো অনেক এমন অগণিত দর্শক আছেন যারা অনুষ্ঠানটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেন। এরপর তিনজন অনন্য দর্শককে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সাত বছর আগে অনুষ্ঠানটির সূচনা পর্বে প্রথম কমেন্টকারী সাইমুম সাদী, ৩০০টি পর্বই ধারাবাহিকভাবে দেখা নারী সুলতানা ইসলাম এবং প্রথম দিকে অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য কারিগরি সহযোগিতা প্রদানকারী জনাব জাকির হোসেনকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়।৩০১ তম পর্ব অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল শায়খ আহমাদুল্লাহর সামনাসামনি প্রশ্নোত্তর পর্ব। শায়খ উপস্থিত দর্শকদের করা বিভিন্ন দ্বীনি ও সমসাময়িক জীবন-জিজ্ঞাসার অত্যন্ত চমৎকার ও তথ্যবহুল সমাধান প্রদান করেন। এর আগে শায়খ আহমাদুল্লাহ তার বক্তব্যে এই লাইভ অনুষ্ঠানটি পরিচালনার নানা অভিজ্ঞতা ও তিক্ত বাস্তবতা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘এই শরয়ী সমাধান অনুষ্ঠানটিই আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রথম প্রকল্প। তখন লোকবল ছিল না, ভালো একটা পিসিও ছিল না। একেবারে আনাড়ি তিনজন লোক এবং একটি গ্যারেজে ১০ হাজার টাকা খরচে অস্থায়ী স্টুডিও করে শুরু করি এই অনুষ্ঠান। এরই মধ্যে দেশের খ্যাতনামা এক শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে অফার আসে যে, তারা এই অনুষ্ঠানটি তাদের লোগো ব্যবহার করে সম্প্রচার করবে। আর এর বিনিময়ে মাসে আট লাখ মানে প্রতি পর্বে দুই লাখ করে টাকা দেবে। কিন্তু তা আমরা গ্রহণ করিনি। যদিও আমাদের সেই সংকটময় মুহূর্তে এমন একটা অফার প্রত্যাখ্যান করা সহজ ব্যাপার ছিল না। কিন্তু আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আমরা তা প্রত্যাখান করেছি। আজ হাঁটি হাঁটি পা পা করে এই অনুষ্ঠান ৩০০ তম পর্ব সমাপ্তি হলো।’এরপর শায়খ আহমাদুল্লাহ শুরু থেকে এই পর্যন্ত সকল দর্শকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এশার নামাজের বিরতির পর শুরু হয় এক অনন্য মুহূর্ত। উপস্থিত চার শতাধিক দর্শক সরাসরি শায়খের সাথে মুসাফাহা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ পান। পরিশেষে সবার জন্য বিশেষ নাস্তার আয়োজনের মাধ্যমে এই স্মরণীয় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানটি বর্তমানে বাংলাভাষী মুসলিমদের কাছে দ্বীনি জ্ঞানার্জনের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। ৩০০তম পর্বের এই বিশেষ আয়োজনে অনলাইন ও অফলাইনে দশ সহস্রাধিক মানুষ অনুষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি এটি যেন দীর্ঘদিন ধারাবাহিকভাবে চালু থাকে—সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
২০ এপ্রিল, ২০২৬
‘আমাদের দেশে সাধারণ শিক্ষাধারার কৃতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নানা আয়োজন করে থাকে। কিন্তু...
আরও পড়ুন
২০ এপ্রিল, ২০২৬
‘আমাদের দেশে সাধারণ শিক্ষাধারার কৃতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নানা আয়োজন করে থাকে। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে কওমী মাদরাসার মেধাবীদের যথাযথ স্বীকৃতি ও গাইডলাইনের তীব্র অভাব। সেই সাথে এ ধরনের উৎসাহমূলক আয়োজনও অপ্রতুল। এই অভাব পূরণে তরুণ আলেমদের গবেষণামুখী ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে এবং যথাযথ পথনির্দেশ প্রদান করতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন তার সাধ্যমতো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা চাই এই মেধাবীরা যেন তাদের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে পারেন এবং সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠেন।’১৭ এপ্রিল, শুক্রবার আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘কওমী কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’ এর অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। এই অনুষ্ঠানে কওমী মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের (মাস্টার্স সমমান) কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় দেশসেরা মেধার স্বাক্ষর রাখা ৫০০ জন তরুণ আলেমকে ৪৫ লক্ষ টাকার সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। এদিন সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে এ অনুষ্ঠান চলে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। তিনি তরুণ আলেমদের ভবিষ্যৎ পথচলা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক নসিহা পেশ করেন। জ্ঞানচর্চা, আমল-আখলাক ও উম্মাহর খেদমতে সদা সচেষ্ট ও নিবেদিত থাকার আহ্বান জানান। সেই সাথে সর্বদা সঠিক মত ও পথের ওপর অবিচল থাকতে বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সাব্বির আহমাদ। তিনি আয়োজনে উপস্থিত সকল অতিথি, ওলামায়ে কেরাম ও কৃতি শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক। তিনি বলেন, ‘কওমী শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের আয়োজন বিরল। অথচ আদর্শ সমাজ গঠনে কওমী ছাত্রদের অবদান অনস্বীকার্য। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি আশা করছি, এই উদ্যোগ তরুণ আলেমদের উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন করে উদ্দীপনা জোগাবে ইনশাল্লাহ। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আলেম, মাদরাসা দারুর রাশাদের শিক্ষাসচিব মাওলানা লিয়াকত আলী, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার শায়খুল হাদিস মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, প্রবীণ ইসলামিক স্কলার, গবেষক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার সাবেক অধ্যাপক ডক্টর এ.বি.এম হিজবুল্লাহ, হাটহাজারী মাদরাসার উচ্চতর হাদিস বিভাগের প্রধান ড. নুরুল আবসার আজহারী, লেখক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শরীফ মুহাম্মদ ও বিশিষ্ট ইসলামি অর্থনীতিবিদ ড. ইউসুফ সুলতান, অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগ ও আদ-দ্বীন হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক শেখ মহিউদ্দীনসহ আরও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ওলামায়ে কেরাম। আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর অধীনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত ১১১ জনের মধ্য থেকে ১০২ জন ও মুমতাজ (জিপিএ-৫ সমমান) অর্জনকারী ১৫৭৫ জন থেকে ১১১৯ জন আবেদন করেন। সেখান থেকে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে সেরা ৫০০ জনকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।পুরস্কার হিসাবে দেয়া হয় সেরা ৪ জনকে পবিত্র উমরাহ পালনের সুযোগ ও ১০ হাজার টাকা সমমূল্যের বই-পুস্তক কেনার ভাউচার। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে মেধাক্রম অনুযায়ী ১ লক্ষ টাকা সমমূল্যের বই-পুস্তক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অংকের ভাউচার ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়। পাশাপাশি ‘আদ-দ্বীন’ হাসপাতালের বিশেষ ‘ডিসকাউন্ট কার্ড’ প্রদান করা হয়।
১৯ এপ্রিল, ২০২৬
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের জন্য আয়োজিত বিশেষ হজ প্রশিক্ষণ কর্মশালা দুই পর্বে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে প্রশিক্ষণ প্রদ...
আরও পড়ুন
১৯ এপ্রিল, ২০২৬
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের জন্য আয়োজিত বিশেষ হজ প্রশিক্ষণ কর্মশালা দুই পর্বে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।১৪ এপ্রিল ও ১৮ এপ্রিল দুই পর্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় মোট ১১০০ জন হজযাত্রী অংশগ্রহণ করেন। ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই কর্মশালা। এতে প্রায় চারশ স্লাইডের মাধ্যমে শায়খ আহমাদুল্লাহ হজের বিধান, গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল এবং সফরকালীন করণীয় বিষয়গুলো সহজ ও বোধগম্যভাবে ব্যাখ্যা করেন। তার উপস্থাপনায় হজের জটিল বিষয়গুলোও হয়ে ওঠে পরিষ্কার ও হৃদয়গ্রাহী।এর পাশাপাশি তিনি উমরার নিয়মাবলি ও মদিনা জিয়ারতের আদব ও করণীয় বিষয়েও অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সাবলীল আলোচনা করেন।এছাড়া হজের প্রস্তুতি বিষয়ক একটি সেশন নেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমাদ ও ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন মোটিভেশনাল স্পিকার ফাহিম আব্দুল্লাহ। প্রশিক্ষণ শেষে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রশ্নোত্তর পর্ব। সেখানে হজযাত্রীদের বিভিন্ন জটিল প্রশ্নের জবাব দেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী হজযাত্রীদের উপস্থিতি ও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। হজের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও প্রশিক্ষিত করতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ বরাবরই প্রশংসিত।
৩১ মার্চ, ২০২৬
রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলের স্বদেশ প্রপার্টিজে আস সুন্নাহ’র মসজিদ কমপ্লেক্স সংলগ্ন মাদরাসাতুস সুন্নাহর খোলা মাঠে চতুর্থবারের মতো ঈদুল ফিতরের জামাত ও আ...
আরও পড়ুন
৩১ মার্চ, ২০২৬
রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলের স্বদেশ প্রপার্টিজে আস সুন্নাহ’র মসজিদ কমপ্লেক্স সংলগ্ন মাদরাসাতুস সুন্নাহর খোলা মাঠে চতুর্থবারের মতো ঈদুল ফিতরের জামাত ও আনন্দ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজের ইমামতি করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠিত হয় এই জামাত। এতে অংশগ্রহণ করেছেন প্রায় দশ হাজার মানুষ। আগত সকলকে খেজুর, পায়েস ও কফি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। সেই সঙ্গে ঈদগাহকে শিশুবান্ধব করার জন্য শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের রাইডের ব্যবস্থা ছিল। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য ছিল মেডিকেল ক্যাম্প। এছাড়াও আফতাবনগর গেট থেকে সীমিত পরিসরে ছিল পরিবহন ব্যবস্থা।নামাজ শেষে মুসল্লিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। এ সময় তিনি বলেন, উন্মুক্ত মাঠে ঈদের নামাজ পড়া সুন্নাহ। আর মাঠে আদায় করলে ঈদের আনন্দটা পূর্ণতা পায়। ঈদের আনন্দকে উৎসবমুখর ও শিশুবান্ধব করার জন্য ছিল ট্রেন, জাম্পিং, পার্ক ও খেলাধূলার জন্য খোলা মাঠ। এসব আয়োজন ঈদের দিনসহ পাঁচদিন বিকাল তিনটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত উন্মুক্ত ছিল। এছাড়া নারীদের জন্য ছিল শরয়ী পর্দার পূর্ণ ব্যবস্থার সঙ্গে নামাজের ব্যবস্থা এবং বিনামূল্যে মেহেদি উৎসব।নামাজ শেষে শায়খ আহমাদুল্লাহ বিশ্বের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে মজলুমের জুলুমের অবসান কামনা করি। সেইসঙ্গে তিনি জ্বালানী সংকটসহ বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে দেশবাসীকে সচেতন ও মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটিকে আবাদ করার আহ্বান জানান।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
গতকাল (২৭ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার রাজধানীর মসজিদ-উত-তাকওয়ার উদ্যোগে জীবনগঠনমূলক ইসলাহী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নন্দিত আ...
আরও পড়ুন
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
গতকাল (২৭ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার রাজধানীর মসজিদ-উত-তাকওয়ার উদ্যোগে জীবনগঠনমূলক ইসলাহী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নন্দিত আলোচক, লেখক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।সেখানে তিনি রমাদানের দর্শন ও তাৎপর্য বিষয়ে ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্য প্রদান করেন।শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, পৃথিবীতে মানুষ সাধারণত যত অপরাধ করে, তার মূলে থাকে দুটি প্রবৃত্তি—ক্ষুধাবৃত্তি ও যৌনবৃত্তি। এই দুই প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণই হলো সিয়ামের মূল কথা। সিয়ামের অর্থও বিরত থাকা। একজন মানুষের সামনে খাবার রয়েছে, তীব্র ক্ষুধা রয়েছে, কেউ দেখছে না—চাইলেই সে খেতে পারে; কিন্তু সে খায় না। এটাই আত্মনিয়ন্ত্রণের বাস্তব প্রশিক্ষণ। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন মানুষ তার সামগ্রিক জীবনকে আল্লাহভীতির অধীন নিয়ে আসতে সক্ষম হন—এটাই সিয়ামের প্রকৃত উদ্দেশ্য।তিনি আরও বলেন, সিয়াম যদি মানুষের সামগ্রিক জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে তা প্রকৃত অর্থে সার্থক সিয়াম নয়।এছাড়া তিনি সিয়ামের বহুমাত্রিক শিক্ষা ও প্রভাবের দিক তুলে ধরেন এবং উপস্থিত মুসল্লিদেরকে রমাদানের অপার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আত্মগঠন, নৈতিক উন্নয়ন, চারিত্রিক শুদ্ধতা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার উদাত্ত্ব আহ্বান জানান।মাহফিলে ধানমন্ডির মসজিদ-উত-তাকওয়া সোসাইটির খতিব মুফতি সাইফুল ইসলামসহ এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ জানে না সে কেন বেঁচে আছে। আমরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পার করে চাকরিতে প্রবেশ করি। সেখানে একটি হ্যান্ডসাম স্যালারি পাই, যা দিয়...
আরও পড়ুন
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ জানে না সে কেন বেঁচে আছে। আমরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পার করে চাকরিতে প্রবেশ করি। সেখানে একটি হ্যান্ডসাম স্যালারি পাই, যা দিয়ে আমরা ও আমাদের পরিবার খেয়ে-পরে বেঁচে থাকি। কিন্তু দিনশেষে দেখা যায়, আমরা কেবল কোনো এক কোম্পানিকে সার্ভ করার জন্য বেঁচে আছি। আমি খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি এবং নিজেকে ফিট রাখছি শুধুই কোম্পানির জন্য। এটি কোনো মানুষের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে পারে না।গতকাল (১০ ডিসেম্বর, বুধবার) যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ইলুমিনেশন সামিট : ইসলামিক সেমিনার ও বুক ফেয়ার’-এ প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শায়খ আহমাদুল্লাহ এসব কথা বলেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘জাস্ট ইসলামিক নলেজ সিকারস সোসাইটি’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এ অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শায়খ আহমাদুল্লাহ আরো বলেন, ‘তোমরা যারা আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছো, তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ। তোমাদের মেধার সাথে যদি নৈতিকতা ও আল্লাহর ভয়ের সংমিশ্রণ ঘটে, তবেই এই দেশ দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ পাবে। মনে রাখবে, একজন সৎ ও চরিত্রবান ব্যক্তি হাজারো অসৎ মেধাবীর চেয়ে উত্তম।’এছাড়া শিক্ষার্থীদের আত্মপরিচয় সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা আল্লাহর গোলাম বা দাস। দুনিয়ার কোনো নেতার পিএস হওয়া যদি গৌরবের হয়, তবে যিনি মহাবিশ্বের মালিক, তার দাস হওয়া কত বড় গৌরবের বিষয়! সুতরাং আমাদের একমাত্র পরিচয় আমরা আল্লাহর গোলাম।অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা ফতোয়া বোর্ডের সভাপতি মুফতি মজিবুর রহমান, আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহর পরিচালক আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাযযাক, নাবিল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ড. নাবিল এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড. নোবেল।
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) ক্যাম্পাসে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কুরআন কনফারেন্স ও সীরাত এক্সিবিশন-২০২৫’। আধুনিক...
আরও পড়ুন
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) ক্যাম্পাসে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কুরআন কনফারেন্স ও সীরাত এক্সিবিশন-২০২৫’। আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সম্মেলনের আয়োজন করেন। এতে দেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও স্কলারগণ বক্তব্য রাখেন।গতকাল (৯ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের বসুন্ধরা ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জনপ্রিয় ইসলামী ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ। বক্তব্যের শুরুতে ঘোষণা দেয়া হয়, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শায়খের কাছে প্রায় নয় শত লিখিত প্রশ্ন জমা পড়েছে। বিপুল সংখ্যক প্রশ্ন থেকে বাছাই করে শিক্ষার্থীদের জীবনঘনিষ্ঠ, সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ, ক্যারিয়ার ও ধর্ম পালন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।প্রশ্নোত্তর পর্বে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে কুরআনের গুরুত্ব তুলে ধরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘কুরআন কোনো সাধারণ গ্রন্থ নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। আজকের তরুণরা যদি কুরআনের আলোয় নিজেদের আলোকিত করতে পারে, তবেই সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। হতাশা আর অবক্ষয়ের এই সময়ে কুরআনই হতে পারে আমাদের শান্তির উৎস।’ তিনি আরো বলেন, ‘সুন্দর জীবন ও সমাজ গঠনে দুনিয়াবি শিক্ষার পাশাপাশি তরুণদের কুরআন পাঠে মনোযোগী হতে হবে।’আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে সফলতার পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সফলতা কেবল ক্যারিয়ার গড়াতে নয়, বরং একজন সৎ, নীতিবান ও মানবিক মানুষ হওয়ার মাঝেই প্রকৃত সফলতা নিহিত। আর এর জন্য রাসুল (সা.)-এর সীরাত চর্চার কোনো বিকল্প নেই।অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক, জনপ্রিয় আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারী এবং ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টারের ডিরেক্টর প্রফেসর মুখতার আহমাদ।
- ১