জাতীয় স্বীকৃতি কওমি মাদরাসার মেধাবীদের প্রাপ্য অধিকার : সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শায়খ আহমাদুল্লাহ
২০ এপ্রিল, ২০২৬, দুপুর ০২:৩৯
‘আমাদের দেশে সাধারণ শিক্ষাধারার কৃতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নানা আয়োজন করে থাকে। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে কওমী মাদরাসার মেধাবীদের যথাযথ স্বীকৃতি ও গাইডলাইনের তীব্র অভাব। সেই সাথে এ ধরনের উৎসাহমূলক আয়োজনও অপ্রতুল। এই অভাব পূরণে তরুণ আলেমদের গবেষণামুখী ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে এবং যথাযথ পথনির্দেশ প্রদান করতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন তার সাধ্যমতো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা চাই এই মেধাবীরা যেন তাদের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে পারেন এবং সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠেন।’
১৭ এপ্রিল, শুক্রবার আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘কওমী কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’ এর অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
এই অনুষ্ঠানে কওমী মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের (মাস্টার্স সমমান) কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় দেশসেরা মেধার স্বাক্ষর রাখা ৫০০ জন তরুণ আলেমকে ৪৫ লক্ষ টাকার সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। এদিন সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে এ অনুষ্ঠান চলে।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। তিনি তরুণ আলেমদের ভবিষ্যৎ পথচলা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক নসিহা পেশ করেন। জ্ঞানচর্চা, আমল-আখলাক ও উম্মাহর খেদমতে সদা সচেষ্ট ও নিবেদিত থাকার আহ্বান জানান। সেই সাথে সর্বদা সঠিক মত ও পথের ওপর অবিচল থাকতে বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সাব্বির আহমাদ। তিনি আয়োজনে উপস্থিত সকল অতিথি, ওলামায়ে কেরাম ও কৃতি শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক। তিনি বলেন, ‘কওমী শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের আয়োজন বিরল। অথচ আদর্শ সমাজ গঠনে কওমী ছাত্রদের অবদান অনস্বীকার্য। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি আশা করছি, এই উদ্যোগ তরুণ আলেমদের উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন করে উদ্দীপনা জোগাবে ইনশাল্লাহ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আলেম, মাদরাসা দারুর রাশাদের শিক্ষাসচিব মাওলানা লিয়াকত আলী, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার শায়খুল হাদিস মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, প্রবীণ ইসলামিক স্কলার, গবেষক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার সাবেক অধ্যাপক ডক্টর এ.বি.এম হিজবুল্লাহ, হাটহাজারী মাদরাসার উচ্চতর হাদিস বিভাগের প্রধান ড. নুরুল আবসার আজহারী, লেখক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শরীফ মুহাম্মদ ও বিশিষ্ট ইসলামি অর্থনীতিবিদ ড. ইউসুফ সুলতান, অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগ ও আদ-দ্বীন হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক শেখ মহিউদ্দীনসহ আরও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ওলামায়ে কেরাম।
আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর অধীনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত ১১১ জনের মধ্য থেকে ১০২ জন ও মুমতাজ (জিপিএ-৫ সমমান) অর্জনকারী ১৫৭৫ জন থেকে ১১১৯ জন আবেদন করেন। সেখান থেকে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে সেরা ৫০০ জনকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পুরস্কার হিসাবে দেয়া হয় সেরা ৪ জনকে পবিত্র উমরাহ পালনের সুযোগ ও ১০ হাজার টাকা সমমূল্যের বই-পুস্তক কেনার ভাউচার। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে মেধাক্রম অনুযায়ী ১ লক্ষ টাকা সমমূল্যের বই-পুস্তক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অংকের ভাউচার ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়। পাশাপাশি ‘আদ-দ্বীন’ হাসপাতালের বিশেষ ‘ডিসকাউন্ট কার্ড’ প্রদান করা হয়।





