আলেমদের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান : শায়খ আহমাদুল্লাহ
২৩ জুলাই, ২০২৬, দুপুর ০৩:৪১
আলেমদেরকে নির্দিষ্ট গণ্ডি পেরিয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং বর্তমান পৃথিবীর বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
গতকাল ২২ জুলাই (বুধবার) আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন মসজিদ কমপ্লেক্সে ‘সমকালীন বিশ্বব্যবস্থা ও উম্মাহর সংকট উত্তরণে আলেম সমাজের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বখ্যাত আলেম ও অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের মুখপাত্র শায়খ ড. খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী।
এ সেমিনারে দেশের বিভিন্ন অঙ্গন থেকে বাছাইকৃত সাত শতাধিক উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় তরুণ আলেম অংশগ্রহণ করেন। সভাপতির বক্তব্যে শায়খ আহমাদুল্লাহ আরো বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আলেমদের গতানুগতিক ধারার ঊর্ধ্বে উঠে সুদূরপ্রসারী চিন্তার নেতৃত্ব গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য অর্জনে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন উম্মাহর স্বার্থে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন একটি উদাহরণ তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমরা শতভাগ চ্যালেঞ্জের সঙ্গে বলতে পারি সততা ও নৈতিকতার প্রশ্নে ফাউন্ডেশন আপসহীন। উদাহরণত—বর্তমানে আমাদের পাঁচ শতাধিক কর্মী ফাউন্ডেশনে কর্মরত, এর মধ্যে একজনও কোনো সুপারিসে কিংবা অনিয়মে নিয়োগ হয়নি। সবাই সম্পূর্ণ মেধা ও নৈতিক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।’
শায়খ ড. খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানীর ১২ দিনব্যাপী বাংলাদেশ সফরের এটি ছিল শেষ দিন এবং এ সেমিনারই ছিল তার সফরের সর্বশেষ কর্মসূচি। তিনি ‘সমকালীন বিশ্বব্যবস্থা ও উম্মাহর সংকট উত্তরণে আলেম সমাজের করণীয়’ বিষয়ে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আজকের রাতটি হয়তো আমার বাংলাদেশে কাটানো সর্বশেষ রাত। এ কদিনে আমি উপলব্ধি করেছি, আপনাদের বহু ভালো গুণ রয়েছে। যদি এসব গুণের সঙ্গে সমঝদারি ও প্রজ্ঞা যুক্ত করতে পারেন, তাহলে আপনারা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবেন। মনে রাখবেন, কেবল দ্বীনদার হওয়া যথেষ্ট নয়; সমঝদার হওয়াও জরুরি।
ড. সাজ্জাদ নোমানী সতর্ক করে আরো বলেন, ‘একজন আলেমের সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো অহংকার। শয়তান জিনা বা শিরকের জন্য নয়, বরং অহংকারের কারণে অভিশপ্ত হয়েছে। নিজেকে মুমিন-মুত্তাকি ভেবে অন্যদের পাপী বা নিচু ভাবার মানসিকতা থেকে আলেমদের বেঁচে থাকতে হবে।’
তিনি বর্তমান সময়ের তরুণদের মনস্তত্ত্ব বোঝার তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘মাদরাসার মতো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ প্রশ্নাতীত নয়। দ্বীনের কোনো বিষয় বুঝতে তাদের ভেতরে ‘কেন’ বা ‘কীভাবে’—এরকম প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। এতে আলেমদের বিরক্ত হওয়া যাবে না। অত্যন্ত ধৈর্য ও হেকমতের সাথে তাদের সংশয় দূর করতে হবে। তাদের সাথে মিশতে হবে। প্রয়োজনে ফুটবল টুর্নামেন্টের মতো খেলাধুলার ইভেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে হলেও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে এবং ইসলামের সৌন্দর্য তাদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত সাড়ে দশটায়। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, খতিব, লেখক ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন। সর্বশেষ দোয়া ও রাতের খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় অনুষ্ঠান।
