দক্ষিণ কোরিয়ায় দাওয়াতি সফরে শায়খ আহমাদুল্লাহ
৩ অক্টোবর, ২০২৩, রাত ১২:০০
শায়খ আহমাদুল্লাহ
কয়েকটি দাওয়াতি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। কোরিয়ান মুসলিম ফেডারেশনের আমন্ত্রণে তিনি দক্ষিণ কোরিয়া গমন করেন। এই সফরে তিনি তিনটি অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। প্রথমে তিনি হোয়াসং বায়তুল ফালাহ মসজিদ এন্ড ইসলামিক দাওয়াহ সেন্টারে ইসলামিক সেমিনারে যোগ দেন।
এছাড়া তিনি দেশটির দেজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে ইসলামিক কনফারেন্সে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। মূলত অনুষ্ঠানটি সংউরি মসজিদে হওয়ার কথা ছিল। ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের উপস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানটি দেজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি আরো অংশগ্রহণ করেন আনসান মসজিদের অনুষ্ঠানে।

শায়খ আহমাদুল্লাহ এই দাওয়াতি সফর সম্পর্কে তাঁর ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার দাওয়াতি সফরের অভিজ্ঞততা বর্ণনা করেন। পাশাপাশি সেখানকার মুসলিমদের আর্থসামাজিক অবস্থা ও দাওয়াতি ক্ষেত্রের ভালো-মন্দ তুলে ধরেন। তিনি লেখেন—
‘শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও দক্ষিণ কোরিয়ায় তিন-তিনটি দাওয়াতি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার সুযোগ হলো, আলহামদুলিল্লাহ।
কোরিয়ান মুসলিম ফেডারেশনের আমন্ত্রণে কৃত এই সফর থেকে পুলক, বিস্ময় ও বেদনার মিশ্র অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরেছি।
প্রথমে পুলকিত হওয়ার তিনটি কারণ বলি।

এক. যেখানে মাত্র পনের হাজার বাংলাদেশি দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাস করেন, সেখানে অল্প দিনের নোটিসে শত শত মাইল দূর থেকে প্রথম প্রোগ্রামে চার-পাঁচ হাজার মানুষ একত্রিত হয়েছিলেন, যা বাংলাদেশের মানুষের ধর্মানুরাগের কথা আবারো স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
এই প্রোগ্রামটি মসজিদে হওয়ার কথা থাকলেও বিপুল উপস্থিতির কথা চিন্তা করে দেজিন বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় এই প্রোগ্রাম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রোগ্রামটি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। অথচ বাংলাদেশের মতো মুসলিম প্রধান দেশেও এটি কল্পনাতীত।
দুই. পরের দুটি প্রোগ্রামেও মসজিদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং মসজিদের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ নাসীহা শুনেছেন, যা মুসলিম প্রধান বাংলাদেশের চিত্র মনে করিয়ে দিয়েছে।
তিন. আরো একটি আনন্দের ব্যাপার হলো, কোরিয়ার বেশিরভাগ মসজিদ নির্মাণ, গড়ে তোলা এবং তত্ত্বাবধানের কাজ আমাদের স্বদেশি ভাইয়েরা করে থাকেন, আলহামদুলিল্লাহ।

বিস্মিত ও ব্যথিত হওয়ার কারণ—কোরিয়ার অলিতে গলিতে চোখে পড়েছে খ্রিস্টানদের অসংখ্য চার্চ। অথচ কয়েক বছর আগেও সেদেশে খ্রিস্টানদের সংখ্যা ছিল খুবই কম।
খ্রিস্টান মিশনারীগুলো এখন এতটাই তৎপর সেদেশে, বাংলায় অবধি লিফলেট তৈরি করে তারা রাস্তায় রাস্তায় বিলি করে। রকমারি খাবার বিতরণ, ফ্রি চুলকাটা-সহ নানা সুযোগ-সুবিধার আড়ালে তারা খ্রিস্টধর্মের দাওয়াত দেয়।
আরো বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, বাঙালিদের কাছে বাংলায় দাওয়াত দেয়ার জন্য সেখানকার যাজকরা প্রয়োজনীয় বাংলাও শিখে ফেলেছে।
ফেরার পথে হোটেল থেকে যখন এয়ারপোর্টের দিকে যাচ্ছিলাম, লক্ষ করলাম, শহরের রাস্তায় শিখরাও নিজ ধর্মের দাওয়াত দিচ্ছে।

কোরিয়ানরা জন্মগতভাবেই শান্ত ও শান্তিপ্রিয় মানুষ। সেখানে সবাই ধর্মপালন ও ধর্মপ্রচারের পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে। এই স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে অন্য ধর্মাবলম্বীরা এগিয়ে গেলেও পিছিয়ে আছে মুসলমানরা। দেশে ফিরেছি; কিন্তু এই ব্যথা ও বিস্ময় এখনো জেগে রয়েছে বুকের মধ্যে।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের তাওফীক দান করুন। কোরিয়াসহ সারা পৃথিবীতে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরার সামর্থ্য দিন। আমীন।’
২৫ সেপ্টেম্বর শায়খ আহমাদুল্লাহ বাংলাদেশ থেকে রওনা হন। পাঁচ দিনের সফর শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফেরেন।