ইউরোপে শায়খ আহমাদুল্লাহর দাওয়াতি সফর
২৭ নভেম্বর, ২০২৪, রাত ১২:০০
শায়খ আহমাদুল্লাহ
দারুল ইহসান বার্লিনের আমন্ত্রণে ইউরোপ সফর করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। ২ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত আঠারো দিনের সফরে তিনি বেশ কিছু দাওয়াতি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। দাওয়াতি প্রোগ্রামের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন মিলনমেলায়ও অংশ নেন।

বর্লিনে বাংলাদেশীদের মিলনমেলায়।
আঠারো দিনে তিনি ইউরোপের এগারোটি দেশ সফর করেন। সেগুলো হলো— জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, চেক রিপাবলিক ও পোল্যান্ড।
এ সময় তিনি ইউরোপের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করেন।
সফর কালে তিনি মুসলিমদের গৌরবের সাক্ষী, ইসলামিক শাসনের স্মৃতিবিজড়িত স্পেনের গ্রানাডার আলহামরা প্রাসাদ ও গ্রানাডা শহর পরিদর্শন করেন। এই শহরের কিছু কিছু স্থাপনায় এখনো মুসলিম শাসনকালের স্মৃতি বিদ্যমান রয়েছে।
হিটলারের নির্যাতনের কেন্দ্র হলোকাস্টের স্থানও পরিদর্শন করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
এছাড়া তিনি ঐতিহাসিক বার্লিন ওয়াল, বর্লিনের টেকনোলোজি মিউজিয়াম, বার্লিন গেট, মিউনিখের বিএমডব্লিউ মিউজিয়াম, ভ্যাটিকান সিটি, রোমের কলোসিয়াম পরিদর্শন করেন। রোমের কলোসিয়াম খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল এবং বহু বর্বরতার সাক্ষী এটি। ১৯৮০ সালে এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা পায়। নতুন সাতটি আশ্চর্যের একটি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

দারুল ইহসানে শিশুদের ভালোবাসায় সিক্ত শায়খ আহমাদুল্লাহ।
এছাড়াও শায়খ আহমাদুল্লাহ ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে প্রাচীন রাজ প্রাসাদ, আইফেল টাওয়ার, সুইডেনের স্টকহোম, চেক প্রজাতন্ত্রের ঐতিহাসিক প্রাগ ও পোল্যন্ডের বাল্টিক সমুদ্র এবং সুইজারল্যান্ডের ইন্টারলাকেন ভ্রমণ করেন।
এই সফরে তিনি হামবুর্গ নদী বন্দর পরিদর্শন করেন, যেটি জার্মানির বৃহত্তম বন্দর। এ বন্দর দিয়ে হিটলারের শাসনকালে ইহুদিরা আমেরিকায় পাড়ি জমায়।
এই সফরে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সাথে ইউরোপের মানুষের জীবন যাপন ও চিন্তাধারা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন।
দীর্ঘ সফর শেষে গত ২১ নভেম্বর শায়খ আহমাদুল্লাহ দেশে ফেরেন। সফরের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে এক ফেইসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘মাত্র আঠারো দিনে শিল্প-সাহিত্য ও বিজ্ঞানের কেন্দ্র ইউরোপের এগারোটি দেশ সফরের সুযোগ হলো আলহামদুলিল্লাহ। সফর মানুষের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং উপলব্ধিকে সমৃদ্ধ করে। শাণিত করে জীবন-দর্শন ও দেখার চোখ। এবারের সফরে পৃথিবীর মোড়লদের জীবন, দর্শন, সংস্কৃতি এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মকৌশল কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে।’
সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে শিগগিরই বই লিখবেন বলে জানান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি লেখেন, ‘সফরে নিয়মিত ডায়রি লিখেছি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে মিলনমেলা, ঐতিহাসিক স্থানসমূহ পরিদর্শন এবং মুসলমানদের হারানো গৌরবময় অতীতের যেসব স্মৃতি দেখেছি, সেইসব অভিজ্ঞতা সিঞ্চন করে অচিরেই একটি বই প্রকাশের ইচ্ছা আছে।’