social post cover

অপকর্ম আড়াল কিংবা তদন্তের আগেই বিচার—কোনোটাই কাম্য নয়

২৪ অক্টোবর, ২০২৬, রাত ১০:৫৬

মাদরাসাগুলোতে জঘন্য অনাচারের যত ঘটনা শোনা যায়, তার অধিকাংশই ভুঁইফোঁড়, মানহীন প্রাইভেট মাদরাসা।

তারপরও এগুলো যেহেতু মাদরাসাই, এবং তাদের অপকর্মের কারণে যেহেতু পুরো মাদরাসা-ব্যবস্থা আজ হুমকির সম্মুখীন, তাই এগুলো দমনে মাদরাসা পরিচালনার সাথে যুক্ত কর্তৃপক্ষকেই জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।

মাদরাসার এই অপকর্ম রোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ সম্বলিত একটি প্রস্তাবনা মাদরাসাসমূহের অভিভাবকতুল্য ৩০-এর অধিক শীর্ষ আলেমের কাছে বেশ আগেই আমি পাঠিয়েছিলাম।

এরপর জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সেই প্রস্তাবনা আমার পেজেও পোস্ট করি।

মাদরাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা অনাচারের বিষয়ে আমি অনেক আগে থেকেই বারবার কথা বলে আসছি।

কিন্তু মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কিংবা পরিচালনা পর্ষদের সাথে আমার কোনো দাপ্তরিক সংশ্লিষ্টতা না থাকায় লেখা ও বলার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি এবং দাবি জানানোর বাইরে আমার হাতে আসলে কোনো বিকল্প উপায় নেই। থাকলে সেটা ব্যবহারের সর্বোচ্চ চেষ্টা আমি করতাম।

আবাসিক মাদরাসাগুলো এদেশের লক্ষ লক্ষ এতিম-অসহায় শিক্ষার্থীদের আশ্রয়স্থল এবং দ্বীনি ইলমের দুর্গ। এই দুর্গসমূহ হেফাজত করতে এবং মাদরাসার প্রতি জনসাধারণের আস্থা অটুট রাখতে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্ণধার এবং শীর্ষস্থানীয় আলেমদেরকে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে জোরালে পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুবা ইতিহাসে এর দায় তাদেরকেই বহন করতে হবে।

এত কিছুর পরও যদি কোনো প্রতিষ্ঠান শিক্ষক নামের কতিপয় অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, সমাধানের পথে না গিয়ে সত্য আড়াল করে, তবে এই লুকোচুরি মাদরাসার জন্য চূড়ান্ত ক্ষতি ডেকে আনবে, তখন আফসোস ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না।

সেই সাথে এটাও বলতে চাই, টঙ্গীর ঘটনায় যিনি অপরাধ প্রমাণের আগেই মাদরাসার শিক্ষকের বিচার করে ফেললেন, তদন্তের পর যদি অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক যে অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হলেন, সেই ক্ষতি কি তিনি কোনোভাবে পুষিয়ে দিতে পারবেন?

এটা বলার কারণ—ইতোপূর্বে এমন বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে—যেখানে আইন হাতে তুলে নেয়ার পর ভিন্ন বাস্তবতা দেখা গেছে।

সুতরাং সকল ক্ষেত্রে আইন হাতে তুলে না নিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করা সবার ক্ষেত্রে সব সময়ের জন্য প্রযোজ্য।

আর হ্যাঁ, ধর্ম অবমাননার ইস্যু সহ কোনো ইস্যুতেই যে আইন হাতে তুলে নেয়া যাবে না, এবং এটাই যে ইসলামের নির্দেশনা, এ বিষয়ে আমি বহুবার কথা বলেছি।

তাই আসুন, মাদরাসা বা যে কোনো জায়গায় সংঘটিত অনাচারের বিরুদ্ধে সরব থাকার পাশাপাশি আমাদের ক্ষণিকের ক্রোধ যেন অন্যের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়েও সজাগ থাকি।